জাতীয় সংসদ নির্বাচন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের আইন সভার সদস্য নির্বাচন করার পদ্ধতি। ৫ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়। এবং ৫০ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হিসাবে মনোনীত হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাই হলেন প্রধান মন্ত্রী। যদি কোন রাজনৈতিক দলই যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তবে কোন দলের জোট থেকে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপ্রধান হলেন একজন রাষ্ট্রপতি তিনি জাতীয় সংসদ কর্তৃক  নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির পদ হল আনুষ্ঠানিকতা , সকল ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৩ সালের ৭ ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩ আসনে জয় লাভ করে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ১ টির বেশি আসনে জয় লাভ করতে পারে নি। সেই নির্বাচনে মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিলো ৫৪.৯%।

২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭ আসনে জয় লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ( মালেক) ৩৯, আওয়ামীলীগ ( মিজান) ২, জাসদ ৮, মুসলিমলীগ ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০, ন্যাপ (মোজাফফর) ১,  বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট ২, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ১, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন ১, জাতীয় একতা পার্টি ১ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয় লাভ করে। সেই নির্বাচনে মোট ভোট সংগৃহীত হয়েছিলো ৫১.৩%।

৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৮৬ সালের ৭ ই মে বাংলাদেশে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনটিতে ১৫২৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ টি আসন জয় লাভ করে। এই নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনটি বর্জন করে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১.১%।

৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৮৮ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে যেমন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫১ টি আসনে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২.৫%।

৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ১ম তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি ছিল প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১ম গণতান্ত্রিক সরকার উপহার পায়। নির্বাচনে প্রধান দুটি দল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি । এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরিতে ৪২৪ জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭৫টি দল থেকে মোট ২৭৮৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ১৪২ আসনে জয় লাভ করে । নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫.৪%।

৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি  বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নি। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০০ আসনেই জয় লাভ করে। পরবর্তীতে জুনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট সংসদ।

৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

১৯৯৬ সালের ১২ জুন  বাংলাদেশে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধান দুটি দল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৬ আসনে জয় লাভ করে।  উক্ত নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থীরা ০.৬৭% এবং দলীয় প্রার্থীরা ৭৪.৮২% ভোট লাভ করে।

৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০০১ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধান দুটি দল ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী দল বিএনপি। এটি হলো ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি ছিল ২য় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি জয় লাভ করে।

৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটি ছিল ৩য় নির্বাচন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে।

১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়।

১১ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন লাভ করে বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ ‘রাতের নির্বাচন’ নামে অভিহিত করেন।  নির্বাচনের আগের রাতেই বেশিরভাগ আসনের এমপিদের ভোট বাক্স নির্বাচনী কেন্দ্রে রেখে উল্লাস করতে দেখা যায়।

১২ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২০২৪ সালের ৭ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে ১২ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত একটি একতরফা নির্বাচন হিসাবে দেশে – বিদেশে সমালোচিত, এই নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি করা হয়, বিকাল ৩ টায় ২৭.১৫% ভোট পড়ে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় কিন্তুু তার ১ ঘন্টা পর ভোট শেষ হলে জানানো হয় ৪১% হয়েছে, ১ ঘন্টায় ১৩% ভোট, যা কল্পনার বাহিরে কারচুপির উদাহরন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি ১, জাসদ ১, কল্যাণ পার্টি ১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনে আয়োজিত সাধারণ নির্বাচন যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার বাস্তবায়নের পর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইতিহাস ও অঙ্গ সংগঠন

গণভোট কি কিভাবে হয় ও ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *