বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে (PayPal)। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে আসছে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল। ২ ডিসেম্বরে মঙ্গলবার ২০২৫, অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড: আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ বাংকের গভর্নর এ তথ্য নিশ্চিত করে।
পেপ্যাল চালুর মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপ গুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনের দীর্ঘদিনের জটিলতা দুর হবে।
পেপ্যাল কি
পেপ্যাল একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা যা বিশ্বব্যাপী সেবা প্রদান করে, যার মাধ্যমে কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো ও গ্রহণ অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা যায়। পেপ্যাল ব্যবহারকাররীর সংখ্যা ৩৬০ মিলিয়নের ও বেশি যা ২০০ টিরও দেশে সেবা দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তারা একটি বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার ছিলেন পেপ্যাল বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না থাকায়।
গভর্নর মনে করে, পেপ্যাল চালু হলে- আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেন হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে, জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে ও বাংলাদেশর অবস্থা হবে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে আরও শক্তিশাল।
পেপ্যাল কবে চালু হয়
পেপ্যাল সংস্করণটি ১৯৯৯ সালে প্রথম চালু হয়েছিল। ইনফিনিটি (Confinity) নামে কোম্পানিটি প্রথম ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে, পরে এক্স.কম ( x.com) এর সাগে এক হয়ে পেপ্যাল নামে পরিচিত লাভ করে। কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠাত হলেও প্রথম লেনদেন হয় অক্টোবর মাসে ১৯৯৯ সালে। ইবে(ebay) প্ল্যাটফর্মের কারণে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ইতিহাস ও অঙ্গ সংগঠন
বিশ্বের শীর্ষ ১০ টি স্মার্ট ফোন কোম্পানি এবং মালিকের নাম
বাংলাদেশে পেপ্যাল সুবিধা সমূহ
মার্কেটপ্লেসে সরাসরি সংযোগ
Fiverr, Upwork, Microstock site & Freelancer.com এর সুবিধা গুলো সহজে পেপ্যালের সাথে লেনদেন করা যায়।
নিরাপদ লেনদেন
শক্তিশালী সিকিউরিটি প্রটেকশন ও মনিটরিং সিস্টেম পেপ্যাল ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়াবে।
দ্রুত লেনদেন গ্রহণ
আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সাররা খুবই দ্রুত কয়েক মিনিটেই পেমেন্ট করতে পারবেন।
বৈদেশিক মুদ্রার প্রভাব বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক অনলাইন প্লান্ট ফর্ম বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট পেপ্যাল ব্যবহার করে, ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রভাব বাড়বে।
ই- কমার্স ও স্টার্টআপ খাতের উত্থান
আন্তর্জাতিক সেবা কেনাকাটা ও বিক্রি সহজ হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্টার্টআপ গুলো খুব সহজে প্রবেশ করতে পারবে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ভাবে অফিসিয়াল একাউন্ট খোলা যায় না। বাংলাদেশ বাংকের গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী খুব শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে একাউন্ট খোলার সুযোগ উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে পেপ্যাল চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হয়নি স্থগিত হয়ে যায়। ফলে নতুন ঘোষণাটি আশার আলো জ্বালালেও ফ্রিল্যান্সিং, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ গুলো সবাই বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
জুম (Xoom) বর্তমান পেপ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সীমিত ভাবে সেবা দিচ্ছে, কিন্তু এটি ফ্রিল্যান্সারদের প্রধান প্রধান চাহিদা পুরণের যথেষ্ট না।
বাংলাদেশ বাংকের গভর্নর ডক্টর আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানে আরও জানান, দেশের দুর্নীতি অদক্ষতা ও অর্থনীতির দুর্বলতা দেশের বড় কারণ নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা করা।
প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায়। তাই ডিজিটাল লেনদেন বাড়িয়ে নগদ লেনদেন ধাপে ধাপে কমিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাংক।


